আমার ও তো মন ভাঙে জল আসে চোখে
আর কত অভিনয় করব মিথ্যে ভালো থাকার হাসি মুখে
আমার ও তো ইচ্ছে হয় মন খারাপের গল্প শোনাতে কাউকে
আমার ও তো ইচ্ছে হয় ভীষন রকম একান্তই তোর হতে
আমারও ইচ্ছে হয় তোর সাথে ঘুরতে যাব দূর তেপান্তরে
আমার ও তো মন বলে কিছু টা সময় যদি তোকে পায় শুধু আমার করে !
আমারও পড়া বই এর তুই সেই চ্যাপ্টার
যাকে ভুলতেও কষ্ট হয় বারবার
জানি না কত জীবন কাটাব আর এই ‘তুই’ এর খোঁজে
আমার মনের মল্লারে তোর কোমল সুর বাজে।।
তুই যে আমার বসন্ত তুই আমার মন
তোর জন্য আছে আমার হাজার অভিমান
তোর জন্য হতে পারি আলতো রোদ্দুর শহরতলির নিস্তদ্ধ বিকেল
তুই আমার চোখের ভাষা পরতে চাসনি তাই হারিয়ে গেলি তুই,মন আমার উথাল পাথাল
তাই দেখা তো ঠিকই হয় চেনা শহরে
তাকানোই হয়না ঠিক করে
তোর চোখে চোখ মেলাতে লাগে ভয়
দিতে হবে বুঝি উত্তর তথায়
চলে গেল দুটো মানুষ আজও দুজনের পছন্দ এক ?
বলার তো অনেক কিছুই ছিল কিছু পরের জন্মের জন্য তোলা থাক।
-স্বরলিপি
গোলাপ( 🌹) অদল বদল
কলমে স্বরলিপি দাস
কলেজ এর তৃতীয় বর্ষ চারজনের খুব সুন্দর বন্ধু
- সীমা অর্ণব রুবি আর কৌশিক এদের দারুন বন্ধুত্ব শুধু বন্ধু নয় রুবি ও কৌশিক একে অপরকে পছন্দ করত আর সীমা অর্ণব কে অর্ণব কিন্তু রুবি কে কিন্তু মজার বিষয় চার জন ই খুব ভালো বন্ধু বন্ধুত্বের ভাঙন ধরবে এই ভয়ে কেউ কিছু বলেনি তিন বছর কলেজে র কাল রেজাল্ট প্রকাশ আবার কবে দেখা হবে জানে না রুবিও কৌশিক একে ওপর কে বুঝতে দিত না যে দুজনে দুজনকে পছন্দ করে যাই হোক রসীমা জানত সব আর রুবি ও জানত যে সীমা অর্ণব কে পছন্দ করে এখন কৌশিক কে ফোন করে অর্ণব – ভাই ,তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আছে একটা কালকে রেজাল্টের পর রুবি কে দারাতে বলিস ও তোর কথা খুব শোনে
- হ্যাঁ আমি বলব কিন্তু কেন? তুই বললেই তো পারিস ডঙ্
- আসলে কাল আমি ওকে তিন বছর ধরে জমা মনের কথা বলব জানিস আমি ওকে তিন বছর ধরে পছন্দ করি কেরিয়ারের জন্য বলতে পারিনি হেল্প করিস আমাকে ।সীমাকে বললাম আমি কাল আমার পছন্দের মানুষ কে মনের কথা বলব ও খুব এক্সাইটেড ।
- জলস্রোতার্থ বাঁধের মতোই বর্ষিত হল অশ্রু নিরুদ্ধ কৌশিকের নয়ন এটা কি বলছে অর্ণব আজ থেকে তিন বছর ধরে সে পছন্দ করে বলতে পারে নি রুবি র পছন্দ এর লাল গোলাপ টা কিনেছে কাল দেবে কিন্তু এটা কি ?
- ওই তুই কথা বল ফোন কেটে সীমাকে কল করল কলার টিউন পরিবর্তন একি !
‘আমি ভেবে যাই কাকে চাইতাম আর তুই কাকে ভালোবাসতিস ‘ - হ্যাঁ বল
ওই তুই এখন কলার টিউন পরিবর্তন করে ছিস?
কালকে যথা সময়ে পৌঁছাস।
রেজাল্ট বেরোলো কৌশিক ও রুবি যুগ্ম ভাবে প্রথম
তারপর ওরা চারজন একটা জায়গায় কৌশিক ও গোলাপ এনেছে অর্ণব ও ।এখন সীমা আর রুবি বলছে
অর্ণব আজকে তোকে মনের কথা বলবে সীমা মনে হয় দেখিস
হ্যাঁ কৌশিক তোকে ।ভালো ই হবে এই দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
…….. সত্যিই খুব স্মরণীয় আজ কে মনে পড়ছে সব কৌশিক এর …মাঝ রাত বাইরে বৃষ্টি তার পাশে সীমি ঘুমন্ত কিন্তু সে ডায়ারির পাতায় আজো লিখছে ……
‘মনে পড়ে রুবি রায় কবিতায় তোমাকে ‘…
তাহলে কি হয়েছিল সেদিন?
হুম সেদিন চারজন এ ই পৌঁছেছিল কিন্তু অর্ণব হঠাৎ কৌশিক এর দিকে তাকিয়ে ই রুবিকে মনের কথা বলে আর কৌশিক বুঝতে পেরেছিল সীমার কেমন লাগবে তাই সে বাধ্য হয়ে সীমাকে মিথ্যে মনের কথা বলে ।দু জন মেয়েই অবাক রুবি এক অভিমান মিশ্রিত চোখ আর কান্না চেপে হাসি মুখে কৌশিকের দিকে তাকাল ও সেই মুহুর্ত মনে হয় সব চেয়ে কঠিন কঠোর নিষ্ঠুর ।আকাশে ও বোধহয় মেঘ করে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি হয় রুবি রাগ অভিমান নিয়ে অর্ণব কে হ্যা করে আর সীমা কৌশিক কে ।। গোলাপ নিবেদন হয় সীমার প্রিয় সাদা গোলাপ আর রুবির লাল গোলাপ অদল বদল হয় ।।।……..
রুবি সেদিন খুব কেঁদেছিল।
কৌশিক কিনা শেষ পর্যন্ত …..
সময় বদলেছে বদলেছে কষ্ট
মনে গান বাজে চারজনের
“কত কথা বলা হল না প্রিয় কত সূর্য মুখীর মন ভার “
…কৌশিক আজ লিখছে ত্রিকোণমিতি র মতোই বদলে গেল সব তাই সময়ের কথা সময়ে বলতে হয় নয়তো নিজের প্রিয় মানুষ কে অন্যের হয়ে যেতে দেখার থেকে বড় কষ্ট জানে না কি হতে পারে ।।
সীমার ফোনে কল আসছে
” সবাই তো সুখী হতে চায় কেউ সুখী হয় কেউ হয় না”
ধন্যবাদ
(বি.দ্র.- সবটাই কাল্পনিক চরিত্র বাস্তবের সঙ্গে মিল নেই ভুল ত্রুটি মার্জনীয়)
কলমে স্বরলিপি দাস
রাস্তা তুই ফুরাস না!
Poem by me
উফঃ কী লম্বা রাস্তা! শেষ নেই নাকি এর!
অলিগলি বেয়ে এগিয়ে চলেছি, সময় পেরোল ঢের!
আর কত চলব রে বাবা!!
“আর একটু সোনা, আর একটু বাবা!”
মা, বাবা কেবল পাশে ছিল, এটাই যা শক্তি!
একদিন তারাও হারিয়ে গেল, দিয়ে আমায় মুক্তি!
যাবার সময় শুধুই দিল অকারণ কিছু যুক্তি!
মুক্তি ওরে, মুক্তি কোথায়? কবে আমিই পাব মুক্তি?
না শেষ নাই! আরও বড়ো লাগে ছোটো ছোটো গলি!
যখন তাদের মধ্যে দিয়ে আমি (একা কেবল একা) চলি!
একজনই কেবল পাশে আছে, জীবনের চিরটাভাগ!
যখন তাতেও মন না ভরে হয় তার প্রতি খালি রাগ!
তখন সে সশশরীরে এল আমার অনেক কাছে!
কানে কানে বলে যায়— “ক্লান্ত হোস না, পাছে—
এই রাস্তার মাঝে থেমে গেলে কী করে পুরোটা দেখবি?
আর রাস্তা হঠাৎ ফুরিয়ে গেলে, এই হাঁটাটা মিস করবি!
আমায় নিয়ে হাঁটতে বুঝি ভালোলাগে না আর!
তালে আর হাঁটিস না, আমায় তবে দে ছাড়!
আমি বললাম—“ নানা পাগল তাই কখনো হয়!”
“রাস্তা যদি ফুরিয়ে যায় — এটাই যে এখন ভয়!”
অক্সিজেন
Poem by Me
সকল গ্যাসেই নিশ্বাস ছাড়ি,
প্রশ্বাসের বেলায় অক্সিজেন!
তোমায় সে যখন ঘিরে থাকে,
কেই বা তার গুরুত্ব দেন?😏
তুই কেবল ব্যস্ত নয়,
ব্যস্ত গোটা পৃথিবী—
দূষণমুক্ত করব তোকে,
গড়ব নতুন পৃথিবী!
শুধু আমায় ঘিরে থাকিস চিরটাকাল,
কালের মায়া ভুলে তোতেই সন্ধ্যা সকাল—
আমি কেবল তোতেই থাকব ডুবে—
আবারও এক নতুন সূর্য উঠবে ওই পুবে!
নির্মল হয়ে এসেছিলি তুই —
নির্মলতর করব তোকে—
সেই দায়িত্ব আমার ভাই—
তবে কাঁদিস বসে কীসের শোকে?
কেবল মনে রাখিস—
“ নিঃশ্বাস তো সবেতেই ছাড়ি প্রশ্বাস কে পাড়ে দিতে?”
তুই তা দিয়েছিস আমায়—
কেবল পাশে থাকিস!
নতুন নিময়
ধীরে ধীরে মন আমার বিলীন হয়ে যায়,
তোর এত আদর আমায় নিঃস্ব করে দেয়—
সকল ভালোবাসা আমি ধেলে দিয়েছি তোতে—
এত ভালোবেসেও পারলাম কি প্রেমিক হতে?
এত কিছু বুঝি না,যা কেবল বুঝি—
আমার মনের সকল কথা বলি সোজাসুজি!
প্রতিটা দিন কেটে যায় একঘেঁয়েমির রসে—
তবুও নতুন করে বাঁচি তোরই ভালোবাসার বসে!
কী বসন্ত, কী শরৎ! যার নিকট তুই—
প্রতি মূহুর্তে সে নতুন করে সাজায় মনের বই—
তোকে নিয়ে নতুন করে গড়ব নতুন নিয়ম—
আর কেউ তা না মানুক, হোক না সে অনিয়ম!!
ভালোবাসায় যৌক্তিকতা মিলিয়ে আমি দেব!
তোর বুকেতে ঠাঁই পেয়েছি— আর কি কিছু চাইব?
অযৌক্তিক নিয়ম গুলো ভাঙ্গতেই যে হবে!!
নতুন নিয়ম তুই আমি আর ভগবানই শুধু জানবে!
বসন্তের বার্তা
By Swaralipi Das
রূপালী শুষ্ক শীত পরীর সরবে সাদা কুয়াশার চাদর,
বসন্ত পঞ্চমীর আগমন হয়, পাশে থাকে
ভ্যালেন্টাইনসডের কদর।
চঞ্চল প্রকৃতি সেজে ওঠে যেন পেয়ে বার্তা আগমনের
ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে আসবে গোটা অরন্যের।
জলে-স্থলে কচি পল্লবে দখিনা বাতাস আম্রমুকুলে
সাজো সাজো শোভা অশোকে, পলাশে, কাঞ্চন মহুয়া ,শিমুলে,
কৃষ্ণচূড়া সাজে ঋতু র আহ্বানে ,ছুটে যেতে চায় প্রাণ
যেমন বাঁশির মূর্ছনায় রাধা ছুটে যেত অনুভবে বংশী -বদনের টান
আম্র কুঞ্জ ন্যুব্জ মুকুলে মাতোয়ারা অলি চাকে গুঞ্জনে
কুহু কুহু দূত কোকিলের কূজন ও বসন্ত রাগের তানে।
পাখপাখালির মনে জাগে শিহরণ শীতের অন্তর্ধানে,
বৃন্দাবনে হোলি খেলে শ্যাম শ্রী রাধিকার সনে ।
বসন্ত উৎসবে বিখ্যাত হলো কবিগুরুর বিশ্বভারতী
চাক্ষুষ করে মুগ্ধ হয় অগণিত দর্শনার্থী।
দোল পূর্ণিমায় হয় উৎসব নবদ্বীপ- মায়াপুরে
চৈতন্য দেবের জন্মতিথি যা বিখ্যাত জগৎজুড়ে।
বসন্তে তবু আছে কাঁটা ,হয় বসন্ত রোগ
তা হলেও সর্বদা স্বাগতম বসন্ত করতে আনন্দ উপভোগ।।
-স্বরলিপি দাস
আমফান
Poem by Swaralipi Das
করোনা যুদ্ধের সাথে পাল্লা
দিয়ে
আরও এক নতুন উপদ্রব এল
এগিয়ে৷
নাম তার অবাক করা
চলো তাকে নিয়ে লিখি একটি
ছোটো ছড়া ৷
গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে যখন
জর্জরিত
প্রবল শক্তি সঞচয়ে এসে
গেছে সাইক্লোন
করোনার উপদ্রবে আমরা
বড়ই ত্রসত৷
তার মধ্যে এল কিনা
আমফান!
হে ভগবান!হে ভগবান!
কত কী আর আছে দেখার
বাকি
ভয় হচ্ছে ঝড়ে উড়ে যায়
নাকি!
আয়লা ,লায়লা ,বুলবুল,ফণী
এতেও বোধহয় মন ভরেনি
সকাল থেকে প্রবল
বৃষ্টি
সত্যিই প্রকৃতি এ কী আজব
সৃষ্টি!
ক্ষতিহবে অনেক ,পোহাতে
হবে অনেক যন্ত্রণা
যদি সম্ভব হয় উড়িয়ে নিয়ে
যাও করোনা৷
৮০-৯০কিমি/ঘন্টা হয়তো
এত বেগ তোমার!
কারেন্ট ও নাই ,কাজ করছে
না ইনভার্টার৷
তাই অনেক দিন পর জ্বালানো হল মোমবাতি
বর্ষা আমার খুব প্রিয় ,তৃতীয়
প্রয়াসে থাকল সাথী
কী আবার? ছাতি ছাতি ছাতি!
যদি সত্যিই কাল থেকে
জানতে পারি
কমে গেছে ভয়ঙকর মহামারী
করবো আমরাও স্মরণ
তোমাকে সত্যিই আমফান৷
20.05.2020.
– স্বরলিপি দাস
😌Thanks for reading
©swaralipidas
Merry Christmas
Poem by Swaralipi Das
সান্তাক্লজের মতই প্রিয়জনেরা দেই আজ উপহার
বড়দিন মানেই চারিপাশে আলোও ও কেকের বাহার !
যীশু খ্রীষ্টের আজ জন্মদিন।।
তাই তো চারিদিকে সাড়ম্বরে পালন হয় ‘বড়দিন’
সান্তা ক্লজ দিতে আসবে উপহার রাতে, এই আশায়
বাবা মা পরিজনেরা শিশু দের ভোলায়।
চারিদিকে সুচিত্রিত আলো আর ক্রিসমাস ট্রি
খেতে হবে এইদিন সুস্বাদু কেক ও পেস্ট্রি।
আলোয় সেজে ওঠে মিশনারী চার্চ ও পার্কস্ট্রিট
আনন্দে মজায় কাটে বড়দিন,শহরে আজ দারুন শীত
সান্তার কাছে একটা জিনিসই চায়
কেটে যাক করোনা মহামারী ঈশ্বরের কৃপায়।।
©swaralipidas
গৌরধাম নবদ্বীপের রাসমেলা
Poem by Swaralipi Das
নিত্যানন্দ মহাপ্রভু অদ্বৈত শ্রীবাস
জগাই মাধাই সবে মিলে করিলেন রাস।❤️
উৎসব মুখর হল নবদ্বীপ শ্রীধাম
আনন্দে পাগল মানুষ জপে হরিনাম ।
চক্ররাস,যুগল মিলন আর কৃষ্ণকালী
‘বড় শ্যামা’ দেখতে চলে নিয়ে অর্ঘ্যের থালি ।
চণ্ডীমাতা,শ্যামা ,গঙ্গা- হরগৌরী
হরেক রকম দেবদেবীর দর্শনে হুড়োহুড়ি
ভদ্রকালী কাত্যায়নী কিংবা ডুমুরেশ্বরী
সব প্রতিমাই সুন্দর লাগে এই কদিন ভারী
তোতাপুরী -বিন্ধ্যবাসিনী – -তারা মা
‘রণকালী’-‘বামা কালী’ বিখ্যাত প্রতিমা ।
জন্মাষ্টমী -কালিয়াদমন আর ধ্রুব নারায়ণ
কৃষ্ণের বিভিন্ন রূপের যায় পাওয়া দর্শন।
কমলে-কামিনী -রণচণ্ডী – মহিষাসুরমর্দিনী
আমরা মাকে ভুবনেশ্বরী রূপেও চিনি।
অন্নপূর্ণা -অকাল বোধন আর হরি-হর মিলন
এখানেই দেখতে পাবে অর্জুনের বিশ্বরূপ দর্শন,
কখনো তিনি দেবীগোষ্ঠো ,কখনো কৃষ্ণ মাতা
বিশ্বজননী রূপে তুমিই সকলের ত্রাতা।
মহিরাবণ বধ- পার্থ সারথী আর নটরাজ
অগুণিত প্রতিমার যে সুসজ্জিত সাজ।
পূর্ণিমা তিথিতে হয় পূজার আয়োজন
হরেক দেশের দর্শনার্থীদের হয় আগমন।
ব্যান্ড তাশা ঢাক আর নিয়ে ঢোল সানাই
নৈবেদ্য আর শোভাযাত্রায় পোড়ামাকে প্রণাম জানায় পরদিন কাঁধে চড়ে আসেন গৌরাঙ্গিনী
ঘুরতে থাকেন দেব-দেবীরা চলে প্রদর্শনী
পাশে চলে দর্শনার্থীরা করে নৃত্য কোলাহল
ফুচকা,ঘুগনীর দোকানেও তখন মানুষের ঢল।
বহুরূপে পূজিত মূর্তির এরপর হয় ভাসান
ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে মিটিয়ে মুশকিল আসান।।
-স্বরলিপি দাস
©swaralipidas
ব্যর্থ প্রেম
Poem by Swaralipi Das
বয়স ছিল তখন সবে মাত্র তেরো
পড়তে যেতাম দল বেঁধে সাইকেলে জনা পনেরো ।
মাঝে মধ্যেই অজানা কারণে কামাই হতো কারো কারো
স্যারের বাড়ির সামনে আড্ডা দিতো আরও জনা বারো ।
সেদিন ছিল চৈত্র মাস সময়টা ছিল বিকাল,
প্রচণ্ড দাবদাহে কয়েকজন ঢালছিল হিমেল জল
হঠাৎ শুরু হল কালবৈশাখী ঝড়
প্রচণ্ড ধূলোয় আবছা দেখলাম একটা নীল ঘর
ঘরের ভিতর পড়ছিল আমারি বয়সী ছেলে!
ঝড়ের তাণ্ডব মাঝে মাঝেই দেখছিল চোখ মেলে
আচম্বিত আমাদের মধ্যে হল দৃষ্টি বিনিময়,
আমার কাছে জানতে চাইলে দিলাম পরিচয়
সুদর্শন সে, সমবয়সী ও নিষ্পাপ ছিল তার চাউনি
অস্পুট স্বরে বুঝিয়ে দিল তার ভালোলাগার কাহিনী,
ঝড় থামল,শান্ত হল মেদিনী।
বাড়ির ভয়ে মেয়েটি আজও তাকে মনে স্থান দেয়নি
সেদিনের সেই ঝড় ওঠেনি শুধু গগনে
উঠেছিল যে আমারও চিন্তনে!
তবুও প্রথম ভালোবাসার মানুষ যে পারেনা ভুলতে
তাইতো জীবনে অব্যক্ত কত যন্ত্রণা হয় সইতে।
এরপর কেটে গেল অনেক বছর
মেয়েটি পেয়েছে আজ অন্য ঘর অন্য বর!
দায়িত্ব পালনে মেয়েটির হয়নি কখন স্থানচ্যুত !
মাঝে মাঝে পুরোনো স্মৃতি আবছা হয়ে যেত
কখনো কনকনে শীতের হিমেল হাওয়ায়
বা ঘনায়মান বর্ষায় তার কথা ভেবে ম্লান হওয়ায়!
এবছর মেয়েটি তার বাবার বাড়ি এল,
চলার পথে নীল বাড়িটায় আজও ছেলেটিকে দেখল
আজ সে হয়েছে পর হয়তো অন্য কারোর বর
চোখাচোখি হয়েই আবার উঠল ঝড়!
মেয়েটির মনে প্রশ্ন জাগে ‘আজও বারান্দায়
তুই কি আমারি অপেক্ষায় ?’
হঠাৎ মেয়েটির স্বামী তাকে ডাকল
মেয়েটি তখনি কল্পনা ছেড়ে বাস্তবে ফিরে এল।
না পাওয়ার যন্ত্রণায় আজও দুজন কাঁদে
মেয়েটি আনমনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ছাঁদে।
হঠাৎ ই শুনল নীল বাড়িটার সামনে কি ভীড়!
এগিয়ে গিয়ে দেখল নিথর দেহ সেই ছেলেটির
থেমে গেছে অনেক স্বপ্ন তার কামনার
চলে গেল সে এই পৃথিবীর সব মায়াকে উপেক্ষা করে দাপটে করোনার!
জলস্রোতরোধার্থ বাঁধেরমতোই বর্ষিত হল অশ্রু,নিরূদ্ধ হল নয়ন
মানেনি কারোর কথা মেয়েটি আর সেদিন
মনে হলো সময়ের কথা সময়ে বলতে না পারায়
সড়িয়ে দিল ভাগ্য দুজনকে দুই ভিন্ন নৌকায়!
হতভাগ্য মেয়েটির চোখের জলের দাম দিল ঈশ্বর
ফেরার পথে গাড়ি চাপাপরে পিষে গেল দেহ নশ্বর।।
-স্বরলিপি দাস
